Blog Single

02 Oct

একটি দিনের স্মৃতি

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই বের হয়ে যাওয়া। অপেক্ষা করতে করতে আর সময় যেনো ফুরাচ্ছেই না। কখন শুরু হবে কখন শুরু হবে। এর ভিতর রোদের তাপও বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। ভাবতেছিলাম বাসায় ফিরে যাবো কিন্তু এর ভিতরেই টি-শার্ট এ লিখালিখি শুরু। আর মার্কার-পেন নিয়ে টানাটানির ভিতর একজন ঢোলের অভাবে বোতল দিয়ে বালতি বাজানো শুরু করে দিলো। যদিও র‍্যালি শুরু হবার আগেই সেই বালতি ভেঙ্গে চুরমার। সেই সাথে মাননীয় ইমরান এর মনও ভেঙ্গে চুরমার। আর সেলফি পার্টি ব্যস্ত তাদের সেলফি তোলা নিয়ে।

র‍্যালি হচ্ছে। অনেকের হাতেই বোতল দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমার হাতে কোন বোতল নেই। তাই বাসার কাছাকাছি পৌছাতেই দৌড় দিয়ে বাসায় গিয়ে একটা বোতল নিয়ে আসলাম। জানি সামনে হয়তো লাগবে। যদিও চিন্তায় ছিলাম যে আমি শেষ পর্যন্ত বোতলটা ব্যবহার করবো কিনা।

Before Coloring

Rally

র‍্যালি শেষ করে ক্লাবের সামনে এসে দেখি সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত। তাই অভ্যাসবশত দূরে গিয়ে কয়েকজনের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। যদিও সেখানেও ছবি তোলা হচ্ছে। দুই একটিতে আমিও জয়েন করলাম জোরাজোরির কারণে। এরপর আবার ক্লাবের সামনে চলে গেলাম পরবর্তী প্লান কি জানতে। হটাত দেখি সব বোতল পার্টি ক্লাবের ভিতরের দিকে দৌড় দিচ্ছে। আমি কি মনে করে দৌড়াতে গিয়েও হেঁটে হেঁটে গিয়ে দেখি আমার গায়ে রঙের বর্ষণ হতে শুরু করেছে। আর পারলাম না। প্রতিশোধ নিতে আমিও বোতলে রঙ ভরতে লেগে গেলাম। সবগুলোকে একটু একটু রঙও মারতেছি। কাছেরগুলোকে একটু বেশিই মারতেছি। ছবিও তুলতেছি। এর ভিতর একটাতো ছবি তুলতে ডেকে নিয়ে মাথায় পুরো এক বোতল রঙ ঢেলে দিলো। আমাকেই আমি আর চিনতে পারছিলাম না। আর সবার রঙ মারামারি দেখেও খুব ভালো লাগতেছিলো। কেউ কেউতো বালতি ভরে এনে পুরো বালতির রঙ ছুড়ে মারছিলো তো কেউ আবার কারো মাথায় পুরো বালতিই ঢেলে দিচ্ছিলো। এ যেনো রঙের মেলা।

All Colored

All Colored

All Colored 3

Just Color

রঙ মারামারি শেষ না হতেই বিশাল ট্রাকের আগমন। তাই আবার ছুটে চলা ট্রাকের উদ্দেশ্যে। যেহেতু সমুদ্র স্লান না হলে আর হচ্ছেই না। এতো রঙ। নাস্তা করতে করতেই সেই রঙ নিয়েই সমুদ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা। আর সেই সাথে বিখ্যাত সব সেলফি। সেলফি তুলতে তুলতেই সমুদ্র। ভেবেছিলাম আমি আর সমুদ্রে নামবোনা। কিন্তু টেনে হিঁচড়ে ঠিকই নামিয়ে ছাড়লো :@ ব্যাপার না। একদিনই তো। নেমে আবার পানি মারামারি 😮 😮 এর মাঝে আবার আমার চশমাও সমুদ্র মিয়া নিয়ে দৌড় দিলো। ভাগ্যিস রনির হাতে গিয়ে পড়ছে। নয়তো আবার চশমা আনার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হতো। 🙁

All Friends On Truck

Truck Selfie

অনেক রঙ মারামারি পানি মারামারি হইছে। ইঁদুরগুলো যুদ্ধ ঘোষণা শুরু করতে যাচ্ছে। তাই আবার বাসায় ফিরে যাওয়া। সমুদ্র যেই রঙ ধুতে পারলো না তা তোলার চেষ্টা করে আবার খেতে আসতে হবে। একটা সাবানের প্রায় অর্ধেক শেষ করে রঙ তুলে খেতে চলে আসলাম। সেদিন বিশ্বাস হলো সমুদ্র স্লানের পর প্রচুর খাওয়া দাওয়া করা যায়। আর খাবারটাও হলো অসাধারণ।

এবার অপেক্ষা। কখন শুরু হবে আমার ফ্রেন্ডদের করা নাটক, গান, নাচ, আলিফ লায়লা, র‍্যাম্প ইত্যাদি। যদিও বেশি অপেক্ষা করতে হলো না। একে একে নাটক নাচ গান ইত্যাদি দিয়ে ষ্টেজ কাঁপানো শুরু। সেই সাথে হারিয়ে যাওয়া বন্ধদের সহ সকলের ছবি সহকারে ডকুমেন্টরি। অনেকেরতো নামও ভুলে গিয়েছিলাম। সেই কবে হারিয়েছে যে মনেই ছিলো না। সেই পূরানো স্মৃতিগুলো চোখের মাঝে ভাসতে লাগলো। মনে হচ্ছিলো সেই স্কুল জীবনেই ফিরে আসছি।

The Sweet Memories Of Our School Life

এরপর আবার আসছে ব্যান্ড এর সময়। একটু খানি ব্রেক দিয়েই ষ্টেজ কাঁপাতে আসলো Error এবং Cryonics ব্যান্ড। চললো সেরকম সব গানের তালে নাচ এবং হেডবেং। সারাদিনের এতো দৌড়াদৌড়ি শেষেও কিভাবে সবার এতো এনার্জি ছিলো সেটাই হচ্ছে অবাক করার মতো। যেনো সেই শৈশব। সেই চাঞ্চল্য। সেই সময়।

 

সবশেষে একত্রে সকলে মিলে ডিনার। সেটাতেও আনন্দের কমতি ছিলো না। গল্পে গল্পে ডিনার শেষে আবার সেই ছবি। বাসায় গিয়ে মনে হয়না কেউ আর ৫ মিনিট বসে ছিলো। আমিই যেভাবে ঘুম দিলাম তাতে অন্যদের কি অবস্থা হয়েছে তা আর বুঝতে বাকি রইলো না।

 

অনেকদিন পর সেই সময়টাই খুঁজে পেলাম। পেলাম সেই চঞ্চলতা। এবং সকলের এক হয়ে একদিন ক্লাস করা। যদিও সাংস্কৃতিক ক্লাসছিলো। তাও কম কিসে?

প্রতিদিনই কেন এরকম দিন আসে না? প্রতিদিনই কেনো সবাই এমন আনন্দ করার সুযোগ পাই না? আবার কবে হবে এরকম পূর্ণমিলনী? অপেক্ষায় আছি আবার এরকম আরো একটি দিনের।

 

ফটো ক্রেডিটঃ

হাসান মন

জয়দাশ

হিমেল

ইশতি

শাওয়াল

আরো অনেকে


স্মৃতি ভরা ছবি


Related Posts

Leave A Comment