Blog Single

28 Apr

একটি দিন এবং কিছু স্মৃতি

সবসময় নিজেকে লুকিয়েই রাখতাম। সেই ছোট থেকেই। এমনই এক অবস্থা যে আমার ক্লাসের বেশীরভাগ মানুষ আমার অস্তিত্ব সম্পর্কেই জানতো না। পথে ঘাটে দেখা হলেও জানতো না যে আমরা একই ব্যাচের পাবলিক। একই এলাকায়ও থাকি এবং একটি ছোট গণ্ডীর ভিতরেই। এভাবেই চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু ক্লাস সেভেন এ আসার পর থেকে আসতে আসতে অনেকের সাথেই বন্ধুত্ব হতে শুরু করলো। সেখান থেকে অন্যদের সাথেও পরিচয়। তবে সেখানেও একটু দূরুত্ত্ব থাকতো। শুধু দেখা হলে হায় হ্যালো পর্যন্তই। এভাবেই চলে গেলো অনেকগুলো বছর। এসএসসি শেষ করে চলে গেলাম দূরের এক কলেজে। আবার সেই দূরে দূরে থাকা। তবে কিছু মানুষ আপনই থেকে গেলো। দূরে থাকা সত্ত্বেও।

২০১৫। কোন পাগলটার মাথায় যে আসছিলো একটা প্রোগ্রাম করবে। ব্যাচের সব পাবলিক যারা অনেক আগেই হারিয়ে গেছে তাদেরকেও ডেকে আনবে। সবাই মিলে একটা দিন পার করবে। হাসি ঠাট্টা হইহুল্লোড় করেই পার করে দিবে। প্রোগ্রাম শুরুর দিনও মনে হচ্ছিলো না যাই। তাও কয়েকজনের জ্বালায় গিয়ে উপস্থিত।

কেন যে এরকম প্রোগ্রাম প্রতিদিন হয় না? কেন?
সেই সাত সকালে উঠে বের হয়ে র‍্যালি, এরপর রঙ মারামারি। মনে হচ্ছিলো বাসায় পানি নাই তাই গোছল করতে বের হয়েছি এবং সবাই পানি ঢেলে সহায়তা করছে। তাও সাধারণ কোন পানি নয়। লাল নিল হলুদ রঙের পানি। কেউ কেউ তো বালতি সহ পানি মারছে।

এরপর সকলে মিলে বিশাল ট্রাকে করে সাগর পারে যাওয়া, আমাকে টেনে হিঁচড়ে পানিতে নিয়ে ফেলা, ডেউয়ের তালে আমার চশমা হারিয়ে যাওয়া আর আমার কিছু পাগল এবং পাগলী ফ্রেন্ডের পানি মারামারি। ভালোই কাটল।

বাসায় গিয়ে ৩ টা শ্যাম্পুর প্যাকেট এবং একটা বড় সাবানের অর্ধেক এর কাছাকাছি শেষ করে দিছি রঙ দুতে গিয়ে। এতো রঙ কেনো? রঙ যেনো শেষই হয় না।

বিরয়ানীটা কে রান্না করেছিলো? আরো এক প্যাকেট খেতে পারতাম। ধারুন হয়েছিলো রান্না। শাওয়ালতো অবাক হয়ে বলেই ফেললো আমি পুরো এক প্যাকেট খেতে পারবো বলে মনেই হয়নাই :p

আমার ফ্রেন্ডগুলোর অভিনীত নাটক, আলিফ লায়লা, নাচ, গান এবং র‍্যাম্প অসাধারণ লাগছে। জীবনেও কখনো এতো হাসি নাই।

Related Posts

Leave A Comment