Blog Single

23 Jul

একলাইনের সারমর্ম

স্কুলে সব সময় একটা কথা শুনতাম। বইয়ের মতো না লিখলে নাম্বার নাই। দেখলামও তাই। মুখস্ত করে হুবহু বইয়ের মতো লিখতে হবে। যেন আমি একটি বইকেই নকল করে যাচ্ছি। আমি সেটা পারতাম না। বইটা একবার রিডিং পড়ে পরীক্ষা দিতে যেতাম। বইয়ে একবার পড়ে মাথায় যা ঢুকত তাই লিখে আসতাম নিজের মতো করে। ফলে সবসময় নম্বর কমই পেতাম।
যখন আমার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা তখন বাসায় আমি ছাড়া শুধু আমার ছোট ভাই বোন ছিলো। বাবা মা একটা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলো। তাই রেজাল্ট এর আগের দিন এক আংকেল বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে অনেক বুঝিয়েছে যে আমি যদি খারাপ করি তাহলে আবার যেন ভুল কিছু করে না বসি। একে তো বাসায় আমিই সবচেয়ে বড় তখন আর কেউ নেই। তার উপর ছোট ভাই বোনকে কে দেখবে। সে নিশ্চিত ছিলো আমি খারাপ করবো। তাই আমাকে আশ্বস্ত করতে বলেছিলো মাঝেমধ্যে রেজাল্ট ভুল আসে। উনি আবার আবেদন করবে দরকার হলে রেজাল্ট আবার চেক করতে।
যেদিন রেজাল্ট দেয় আমাকে এক স্যার রাস্তায় পেয়ে রেজাল্ট জানতে চায়। বলার পরো তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। রোল জেনে নিয়ে স্কুলে গিয়ে মিলিয়ে দেখেন সত্যি কিনা। এরপর পরি আবার দেখা হওয়ায় উনি এসে বলেছিলেন সে বিশ্বাস করতে পারেননি আমি পাশ করবো।
আমি পাশ করেছিলাম। আহামরি রেজাল্ট নয়, কিন্তু পাশ করেছি। আমার সার্টিফিকেট বলতে আমি অনেক সময় বলেই থাকি যে আমার এই একটি সার্টিফিকেটই আছে। আর কিছুর দরকার নেই।
আমি মুখস্ত করতে পারি না কিন্তু যা জানি তা দিয়েই নিজের পৃথিবী তৈরি করতে পারি। ছোট বেলা থেকেই বিশ্বাস ছিলো আমি পারবো তাই এখনো পারি। কেউ এখন আমাকে কাজ দেয়ার আগে জিজ্ঞেস করেনা আমার কি কি সার্টিফিকেট আছে। তারা জানেও না এবং জানারও প্রয়োজন নেই। তারা জানে আমি কাজ জানি সেটাই যথেষ্ট।
কেন কাজ জানি? খুব সহজ। ওই যে আমি মুখস্ত করে নাম্বার পেতে চেষ্টা করিনি, বুঝতে চেষ্টা করেছি। সেই বুঝতে চেষ্টা করার কারণেই খুঁজে পেয়েছি কিভাবে ছোট একটা সুই দিয়ে বিশাল কাপড় বোনা যায়। আর সেই একলাইনের সারমর্মই তাই অনেক।

Related Posts

Leave A Comment