Blog Single

28 Apr

জঞ্জালের লাইট

স্কুলে থাকতেই আমার পকেটে অনেক কিছু থাকতো। ছুরি, মোটর, লাইট, চুম্বক আরো কতো কি হিসেব নেই। যখন কলেজে যাওয়া শুরু করলাম তখন সেগুলো পকেট থেকে বের হয়ে বিশাল ট্র্যাঙ্ক এ চলে গেলো। কোথাও যাওয়ার সময় সেগুলোকে ট্র্যাঙ্ক থেকে ব্যাগ এ নিয়ে সেই ভারি ব্যাগ নিয়ে যেতাম। সেই ট্র্যাঙ্ক এ কি ছিল না? যতসব জঞ্জাল। আর সব সময়ে এগুলো নিয়েই পড়ে থাকতাম। চেষ্টা করতাম এইটা সেইটা বানাতে। আর নাড়াচাড়া করতাম।

কলেজের লাইফে আমি এমন এক এলাকায় ছিলাম যেখানে বিদ্যুৎ থাকতো না বললেই চলে। আমার জন্য বিদ্যুৎহীন এক মুহূর্ত থাকা অনেক কষ্টকর। সবার প্রথম যেই সমস্যাটা ফেস করলাম তা হলো অন্ধকার। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম একটা টেবিল লাইট বানাবো। যাতে আলো পাই। তাই ট্র্যাঙ্ক খুলে সব কিছু বের করা শুরু করলাম। বাতিল করে দেয়া মোবাইলের ব্যাটারি, তার, নষ্ট টর্চ লাইটের বাল্ব থেকে শুরু করে সব কিছুই বাতিল করে দেয়া অর্থাৎ ফেলে দেয়ার মতো যন্ত্রপাতি।  এমনকি স্ট্যান্ড তৈরি করতেও ব্যবহার করলাম সাইকেলের চাকার বাতিল শিক। শুধু যে লাইট বানালাম তা না। একই সাথে চার্জার ও তৈরি করতে হলো। এজন্য ব্যবহার করলাম ভাঙ্গা টিফিন বক্স এর কভার আর এর ভিতর টেপ ও কাগজ ব্যবহার করে সেট করা সার্কিটসমূহ। ট্রান্সফরমারটাও বাতিল ছিলো। ইয়া বড় আকারের ট্রান্সফরমার।

যেহেতু এর প্রতিটা পার্টস ছিলো বাতিল করে দেয়া তাই এর একটি নাম দেয়ার জন্য নাম খুজতেছিলাম। অনেক ভাবার পর তিন গোয়েন্দা গল্পের জাঙ্ক ইয়ার্ড থেকে নাম নিয়ে জাঙ্ক ল্যাম্প রেখেছিলাম। এই ল্যাম্পটি অনেকদিন সাথেই ছিলো। দীর্ঘদিন আমাকে সহায়তা করে গেছে। সার্ভিসেও কোন সমস্যা করেনি।

 

জানিনা ল্যাম্পটি এখন কোথায় আছে। আমার রুমমেট ক্লাসের ল্যাব পরীক্ষায় জমা দিয়েছিলো। স্যার এর কাছে ল্যাম্পটি খুব ভালো লাগায় সে নিয়ে গিয়েছিলো। যদিও অন্যান্য সবার সব কিছুই ফেরত দিয়েছে শুধু এটাই নিয়ে গেছে 🙁

যদিও এখন পর্যন্ত সেই চার্জারটি আমার কাছেই থেকে গেছে। মাঝেমধ্যে দেখি আর সেই স্মৃতি মনে করি। কিছু তৈরি করার মাঝেও আনন্দ আছে 🙂 আর তা যদি হয় নষ্ট কিছু থেকে তাহলেতো কথাই নেই 🙂 🙂

Related Posts

Leave A Comment